গণমাধ্যমে প্রতিবন্ধী সমতা: প্রতিবন্ধিতাবিষয়ক মিডিয়া ফেলোশিপের জন্য প্রস্তাব আহ্বান
ভূমিকা
গণমাধ্যম উন্নয়ন ও যোগাযোগবিষয়ক প্রতিষ্ঠান সমষ্টি জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেস্কো)-এর সহযোগিতায় “গণমাধ্যমে প্রতিবন্ধী সমতা”শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মর্যাদাপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং মানবাধিকারভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্রতিবন্ধিতা বিষয়ের উপর অনুসন্ধানী ও বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন তৈরির জন্য একটি মিডিয়া ফেলোশিপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ফেলোশিপের উদ্দেশ্য:
- গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও প্রতিবন্ধী অধিকার কার্যক্রমগুলোর মধ্যে টেকসই পারস্পরিক সহযোগিতা উৎসাহিত করা;
- সাংবাদিক, সম্পাদক ও মিডিয়া পেশাজীবীদের কারিগরি ও সম্পাদকীয় দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিবন্ধিতা অন্তর্ভুক্ত রিপোর্টিংয়ের মানোন্নয়ন ঘটানো;
- আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মর্যাদা, প্রবেশগম্যতা ও সমঅধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা দেওয়া;
- প্রতিবন্ধিতাবিষয়ক রিপোর্টিংয়ের জন্য ইউনেস্কোর নির্দেশিকা রিপোর্টিংয়ে প্রয়োগে উৎসাহিত করা;
- প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী নারীদের, কণ্ঠ ও প্রতিনিধিত্ব গণমাধ্যমে ন্যায্য ও যথাযথভাবে তুলে ধরতে উৎসাহিত করা।
ফেলোশিপে অংশগ্রহণের জন্য বিভিন্ন গণমাধ্যম (প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন, কমিউনিটি রেডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম) থেকে আগ্রহী ও যোগ্য সাংবাদিক এবং কনটেন্ট নির্মাতাদের কাছ থেকে প্রস্তাব আহ্বান করা হচ্ছে। নারী সাংবাদিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
রিপোর্টিংয়ের বিষয়বস্তু
ফেলোশিপের আওতায় প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে মানবাধিকারের বিষয়গুলোকে (যেমন: অংশগ্রহণ, জবাবদিহি, বৈষম্যহীনতা, ক্ষমতায়ন এবং আইনি অধিকার) প্রাধান্য দিতে হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে প্রতিবেদনগুলো মর্যাদা, প্রবেশগম্যতা এবং সমঅধিকার নিশ্চিত করার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তৈরি করতে হবে।
প্রস্তাবনা তৈরির সময় অন্যান্য সম্পর্কিত বিষয়ের সঙ্গে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর ওপরও গুরুত্ব দিতে পারেন:
- প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, সমাজে অন্তর্ভুক্তি এবং নীতিমালার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া
- বিভিন্ন খাতে (শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, বিচারপ্রাপ্তি ইত্যাদি) প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে বাধা ও বৈষম্য
- নারী প্রতিবন্ধীদের অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ এবং নেতৃত্বের গল্প
- প্রতিবন্ধিতা-সম্পর্কিত আইন, নীতিমালা বা প্রকল্পের অগ্রগতি ও প্রভাব
- সেবাপ্রাপ্তি, সামাজিক সুরক্ষা এবং সরকার ও বেসরকারি খাতে দায়বদ্ধতার দৃষ্টান্ত
- প্রতিবন্ধিতা-সম্পর্কিত ইতিবাচক পরিবর্তন, উদ্ভাবনী উদ্যোগ বা প্রবেশগম্যতা বৃদ্ধির কার্যক্রম
প্রতিজন ফেলো কমপক্ষে দুটি অনুসন্ধানী বা বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন তৈরি ও প্রচার/প্রকাশ করবেন। প্রতিবেদন তৈরির আগে ফেলোদের উচ্চমানসম্পন্ন রিপোর্ট তৈরিতে সহযোগিতার জন্য প্রতিবন্ধিতাসংক্রান্ত রিপোর্টিং গাইডলাইন প্রদান করা হবে ।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
ফেলোশিপ প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল মাধ্যমে কর্মরত রিপোর্টারদের জন্য উন্মুক্ত (বাংলা ও ইংরেজি দৈনিক, টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, কমিউনিটি রেডিও)। এছাড়া মানবাধিকার ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ও সৃজনশীল কনটেন্ট নির্মাতারাও আবেদন করতে পারবেন ।
আবেদনকারীদের অবশ্যই গভীরতাধর্মী সাংবাদিকতায় (যেমন: অনুসন্ধানী ও বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন) বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। প্রতিবন্ধিতা, মানবাধিকার ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি বিষয়ে পূর্ব-অভিজ্ঞতা থাকলে তা অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। নির্বাচিত হওয়ার পর আবেদনকারীকে তাদের প্রস্তাবিত প্রতিবেদন প্রচার/প্রকাশের নিশ্চয়তা দিতে হবে।
ফেলোশিপের সময়সূচি
- প্রস্তাব জমা দেওয়ার শেষ তারিখ: ২০ মে ২০২৫
- মূল্যায়ন ও চূড়ান্ত বাছাই: ৩১ মে ২০২৫
- ওরিয়েন্টেশন: ১৫ জুনের মধ্যে
- অনলাইন ফলোআপ মিটিং: ২৫ জুন ২০২৫ থেকে ১৫ জুলাই ২০২৫ এর মধ্যে
- রিপোর্ট প্রকাশ/প্রচার: ১৬ জুন ২০২৫ থেকে ৩১ জুলাই ২০২৫-এর মধ্যে
বিশেষ শর্ত: দুটি রিপোর্টের জন্য আলাদাভাবে দুটি প্রস্তাব জমা দিতে হবে।
বাছাইপ্রক্রিয়া
তিন সদস্যের একটি জুরি বোর্ড রিপোর্ট প্রস্তাব মূল্যায়ন করবেন। তাঁদের সম্মিলিত স্কোরের ভিত্তিতে ফেলোদের নির্বাচন করা হবে।
ফেলোশিপের সম্মানী
নির্বাচিত প্রত্যেক ফেলো দুটি রিপোর্টের জন্য সম্মানী হিসেবে ৪০ হাজার টাকা পাবেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এ সম্মানী থেকে উৎসে আয়কর কর্তন করা হবে। সম্মানী শুধুমাত্র ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মাধ্যমে স্থানান্তর করা হবে। এছাড়াও সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।
ওরিয়েন্টশন ও মেন্টরশিপ
নির্বাচিত ফেলোদের প্রকল্পের পক্ষ থেকে ওরিয়েন্টশন প্রদান করা হবে। ফেলোশিপ চলাকালীন দুটি অনলাইন মিটিং আয়োজন করা হবে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ, সংবাদ/স্ক্রিপ্ট তৈরির ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় পরামর্শ, মেন্টরশিপ ও সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
বিশেষ শর্ত
নির্বাচিত ফেলো সাংবাদিক ও কনটেন্ট নির্মাতাকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন/কনটেন্ট প্রকাশ বা সম্প্রচারের পূর্বে প্রকল্প দলের সঙ্গে শেয়ার করতে হবে। প্রকল্প দল প্রতিবেদন পর্যালোচনা করবে, প্রয়োজনে সম্পাদনার জন্য পরামর্শ প্রদান করবে। প্রকল্পের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রতিবেদন প্রকাশ/প্রচার করা যাবে।
ফেলোশিপের প্রত্যাশিত ফলাফল
১. ফেলোশিপ কার্যক্রমের মাধ্যমে নির্বাচিত ফেলোবৃন্দ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন, অধিকারকর্মী ও সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবেন। এর ফলে গণমাধ্যম ও প্রতিবন্ধী অধিকার কার্যক্রমগুলোর মধ্যে সহযোগিতা, বোঝাপড়া ও যৌথ উদ্যোগের ভিত্তি তৈরি হবে।
২. নির্বাচিত ফেলোবৃন্দ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মর্যাদা, প্রবেশগম্যতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক মান অনুসারে অনুসন্ধানী ও বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন তৈরি করবেন, যা গণমাধ্যমে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।
৩. ফেলোশিপ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রতিবন্ধিতা অন্তর্ভুক্ত রিপোর্টিংয়ের জন্য প্রস্তুতকৃত ম্যানুয়াল ও গাইডলাইন সাংবাদিকদের মাঝে বিতরণ ও সেগুলো ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা প্রদান করা হবে। এতে তারা দৈনন্দিন রিপোর্টিংয়ে এই নির্দেশনাগুলো প্রয়োগ করতে সক্ষম হবেন। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরেও এ ধরনের চর্চার বিষয়ে তারা পরামর্শ প্রদান করতে পারবেন।
৪. ফেলোদের তৈরি প্রতিবেদনসমূহে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা, চাহিদা ও কণ্ঠস্বর গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী নারীদের জীবনের বাস্তবতা ও সক্ষমতা তুলে ধরার মাধ্যমে গণমাধ্যমে তাদের দৃশ্যমানতা ও প্রতিনিধিত্ব বাড়বে।
প্রস্তাব ফর্ম
রিপোর্ট প্রস্তাবের ক্ষেত্রে এই ফর্মটি কপি করে ব্যবহার করুন। দুটি রিপোর্টের জন্য আলাদাভাবে দুটি প্রস্তাব জমা দিতে হবে। দুটি প্রস্তাব ছাড়া আবেদন গৃহীত হবে না।
ক. আবেদনকারীর তথ্য
১. আবেদনকারীর নাম:
২. পদবি:
৩. সংবাদমাধ্যমের নাম (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষেত্রে প্ল্যাটফর্ম বা চ্যানেলের ওয়েব ঠিকানা):
৪. আবেদনকারীর বর্তমান ঠিকানা:
৫. ফোন নম্বর:
৬. ইমেইল:
খ. ফেলোশিপে আগ্রহের কারণ (সর্বোচ্চ ৩০০ শব্দ)
এই ফেলোশিপের জন্য আপনার আগ্রহের কারণ ব্যাখ্যা করুন। আপনি কেন এই বিষয়ের সাথে যুক্ত হতে চান, এর সামাজিক গুরুত্ব আপনি কীভাবে দেখেন এবং কীভাবে এই ফেলোশিপ আপনার সাংবাদিকতা পেশায় বা ভবিষ্যৎ লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে, কীভাবে এই ফেলোশিপ আপনার প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করতে পারে—এসব বিষয় আপনার নিজের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে সংক্ষেপে উপস্থাপন করুন ।
গ. গভীরতাধর্মী রিপোর্টিংয়ে পূর্ব-অভিজ্ঞতা
পূর্বে প্রকাশিত বা প্রচারিত গভীরতাধর্মী (যেমন: অনুসন্ধানী ও বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন) রিপোর্টের অন্তত দুটির তথ্য দিন। মানবাধিকার, প্রতিবন্ধিতা বা সামাজিক অন্তর্ভুক্তি-সংক্রান্ত কাজ থাকলে সেগুলো আলাদাভাবে চিহ্নিত করুন।
- প্রকাশিত প্রতিবেদন/ফিচারের লিংক (অনলাইন বা প্রিন্ট মিডিয়া)
- ভিডিও প্রতিবেদন বা টিভি সম্প্রচারের ইউটিউব/চ্যানেল লিংক
- পিডিএফ বা স্ক্যানকৃত কপি (যদি অনলাইন লিংক না থাকে)
- প্রতিবেদনের প্রাসঙ্গিক অংশের বিবরণ (শিরোনাম, প্রকাশের তারিখ, মাধ্যম ইত্যাদি)
ঘ. রিপোর্ট প্রস্তাব (সর্বোচ্চ ৫০০ শব্দ)
১. রিপোর্টের বিষয়
২. ফোকাস (এই অংশে রিপোর্টটি মূলত কোন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লেখা বা তৈরি হবে তা ব্যাখ্যা করুন)
৩. প্রাসঙ্গিকতা (প্রতিবন্ধিতা বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য কীভাবে বিষয়টি সম্পর্কিত, তার ব্যাখ্যা)
৪. রিপোর্টের ধরন (অনুসন্ধানী/বিশ্লেষণধর্মী)
৫. রিপোর্টের সম্ভাব্য তথ্য ও তার উৎস
৬. সম্ভাব্য ছবি/ভিডিও/ইনফোগ্রাফিক্স
৭. রিপোর্টটি প্রকাশিত হলে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সেটির কী কী সম্ভ্যাব্য প্রভাব হতে পারে?
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিপোর্ট প্রকাশ বা প্রচার করবেন, এই মর্মে সম্পাদকীয় বিভাগের পূর্বানুমতিপত্র
প্রস্তাব মনোনীত হলে রিপোর্টারকে সম্পাদকীয় বিভাগের লিখিত পূর্বানুমতিপত্র জমা দিতে হবে।
প্রস্তাব জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ও যোগাযোগ
২০ মে ২০২৫
প্রস্তাব নিম্নোক্ত ইমেইলে পাঠাতে হবে: somashte@gmail.com
যেকোনো তথ্যের জন্য যোগাযোগ: ০১৭৪৯৮৯৯৭৭১